লং টার্ম ক্লায়েন্ট ধরার তিনটি কৌশল

ফ্রিল্যান্সিং কিংবা যে কোন ব্যবসায় লং টার্ম ক্লায়েন্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা সম্পদ। আপনার অগ্রগতিতে এই ধরণের ক্লায়েন্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন। সুতরাং যত বেশি লং টার্ম ক্লায়েন্ট আপনি ধরে রাখতে পারবেন আপনি তত দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবেন। এরা শুধু আপনার ক্লায়েন্ট না এরা আপনার মার্কেটারও। কারণ এদের রেফারেন্সে আপনি অনেক নতুন ক্লায়েন্ট পেতে পারেন।
এক্ষেত্রে আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই, আমি গত প্রায় দেড় বছর ধরে একটা ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করছি যার জার্মানিতে নিজের একটা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি আছে। আমি তাঁর ঐ এজেন্সির বিভিন্ন ওয়েবসাইট রিলেটেড প্রজেক্ট গুলা করে দেই। তো আমার এই ক্লায়েন্ট কিন্তু সরাসরি আমার কাছে কাজ নিয়ে আসে নি, সে তাঁর প্রথম কাজটি আমার কাছে নিয়ে এসেছিল তাঁর আরেকটা বন্ধুর পরামর্শে। আর তাঁর ঐ বন্ধুটি ছিল আমার ক্যারিয়ারের প্রথম দিকের একজন লং টার্ম ক্লায়েন্ট। এখন বলুন আমার মার্কেটিংটা এখানে কে করেছিল? আমি নাকি আমার ক্লায়েন্ট?
নতুন কোন ক্লায়েন্টকে লং টার্ম ক্লায়েন্টে রূপান্তর করা কঠিন কিছু না। কিছু জিনিসের দিকে লক্ষ্য রাখলে আপনি খুব সহজে লং টার্ম ক্লায়েন্ট ধরতে পারবেন। নিচের পয়েন্ট গুলি লক্ষ্য করুনঃ
১. কমিউনিকেশনঃ কমিউনিকেশন হল ক্লায়েন্টের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের একদম প্রথম ধাপ। এর মাধ্যমেই আপনার ইম্প্রেশন ক্লায়েন্টের কাছে সর্ব প্রথম প্রকাশ পায়। কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানোর বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। এজন্য গুগলে রিসার্চ করুন।
২. কুয়ালিটিঃ হ্যাঁ, আপনার কাজের কুয়ালিটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ । আপনি নিশ্চয়ই ঐ টেইলরের কাছে দ্বিতীয়বার যাবেন না যে প্রথমবার আপনার শার্টটি সেলাই করতে গিয়ে নষ্ট করে ফেলেছিল। সো যে কাজই করুন আপনার সর্বোচ্চটা দিয়ে করুন এবং কাজের মান সর্বোচ্চ রাখার চেষ্টা করুন। আপনার কাজের/প্রোডাক্টের মান ভাল হলে কমিউনিকেশনের দিক দিয়ে আপনি অনেক সময় পার পেয়ে যাবেন।
৩. ডেডলাইনঃ কখনো ডেডলাইন মিস করবেন না। ডেডলাইন মিস করা মানে হল কথা দিয়ে কথার বরখেলাপ করার মত। এক্ষেত্রেও পাড়ার টেইলররা উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে। ধরুন আপনি একটি প্যান্ট তৈরি করতে একজন টেইলরের কাছে গেলেন। সে আপনাকে পাঁচ দিন পরে এসে প্যান্টটি নিয়ে যেতে বলল। আপনি পাঁচ দিন পরে গিয়ে দেখেন প্যান্টটি কমপ্লিট হওয়া তো দূরের কথা সে এখনো কাজ শুরুই করে নি, তখন আপনার অনুভূতি কেমন হয়? সবসময় ডেডলাইনের আগে প্রজেক্ট শেষ করে জমা দেয়ার চেষ্টা করুন। এতে ক্লায়েন্ট অনেক খুশি হন। কুয়ালিটি+ডেডলাইন এই দুইটা জিনিস যদি ভাল হয় তাহলে ক্লায়েন্টের কাছ থেকে অনেক সময় আপনি বকশিশও পেতে পারেন।
পরিশেষে একটি কথা, ক্লায়েন্ট ধরে রাখতে গিয়ে কখনো নিজের দাম কমাবেন না। আপানার কাজের বা প্রোডাক্টের কুয়ালিটি যেমন সে অনুযায়ী দাম রাখুন। যারা কুয়ালিটিতে বিশ্বাস করে তারা ঠিকই আপনার পন্য গ্রহণ করবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।